বগুড়া সাহিত্যাঙ্গনে আয়োজন করা হয়েছে দুই দিনের কবি–লেখক সম্মেলন, যেখানে লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদক, তরুণ কবি ও গবেষকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। যাচাইকৃত তথ্যমতে, ২৮–২৯ নভেম্বরের এই সম্মেলন কবিতা পাঠ, সাহিত্যবিষয়ক গোলটেবিল ও ছোটকাগজ সংস্কৃতি নিয়ে মুক্ত আলোচনা কেন্দ্র করে সাজানো।
বগুড়া লেখক চক্র দীর্ঘ ৩৭ বছরের পুরনো একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই “সংস্কৃতি জনগণের সম্পদ” এই স্লোগানকে সামনে রেখে সাহিত্য–সংস্কৃতি প্রসারে কাজ করে আসছে। এই সম্মেলন তাদের ২০২৫ সালের কর্মসূচি থেকে অন্যতম। সংগঠনের সভাপতি হিসেবে, ইসলাম রফিক গত বছর পুরস্কারপ্রাপ্তদের ঘোষণা ও এবারের সম্মেলনের পরিকল্পনা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।
এ বছর মোট ছয়জনকে দেওয়া হবে “বগুড়া লেখক চক্র পুরস্কার ২০২৫” — যারা কবিতা, গদ্য, প্রবন্ধ, লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদনা, সাংবাদিকতা এবং শিশুসাহিত্যের মতো বিভিন্ন পাঠচর্চায় দৃষ্টগণ্য অবদান রেখেছেন। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন কবি মাসুদার রহমান, গদ্যকার আনিফ রুবেদ, প্রবন্ধকার সৈকত হাবিব, “জলছবি” লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদক জামসেদ ওয়াজেদ, সাংবাদিক/গবেষক মতিউল ইসলাম সাদি এবং শিশুসাহিত্যিক হাসনাত আমজাদ।
সম্মেলনের প্রথম দিন (২৮ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে উদ্বোধন হবে। উদ্বোধন করেন বগুড়া জেলা বিএনপি সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। এরপর একটি বর্ণাঢ্য কর্মসূচি শুরু হবে।
প্রথম দিনের কাজগুলোতে থাকবে:
কবিতা ও গদ্য পাঠ, লিটল ম্যাগাজিন-সম্পাদনা ও মুক্ত-চিন্তা নিয়ে গোলটেবিল আলোচনা এবং নতুন সাহিত্য, প্রকাশনা ও পাঠক–লেখক সংযোগ বিষয়ক সেশন
দ্বিতীয় দিন (২৯ নভেম্বর) প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকবে পুরস্কার বিতরণ। পুরস্কারপ্রাপ্ত চার্টার, সার্টিফিকেট ও সম্মাননাপত্র হাতে তুলে দেবেন রাজধানীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একজন প্রধান অতিথি — বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি–র মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন।
এছাড়া রয়েছে সাংগঠনিক মুখপত্র প্রকাশ, সেমিনার পেপার, স্মারক “স্যুভেনিয়ার” গ্রন্থ উন্মোচন ও পরিচিতি বর্ধনীর জন্য ঐতিহ্যবাহী ছাপা মাধ্যম — এটি পর্দা পেছনের লেখক, সম্পাদক ও বুদ্ধিজীবীদের জন্য একটি রূপক যাত্রা।
বাংলাদেশে শিল্প, সাহিত্য, ভাষা ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ প্রায়ই রাজধানী-কেন্দ্রিক হয়। বগুড়া কবি সম্মেলন এমন এক প্রয়াস যা প্রান্তিক অঞ্চলের কবি, জনপ্রিয় নয় এমন গদ্যকার, লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদক ও ছোট-মাপে কাজ করা বুদ্ধিজীবীদের জন্য মঞ্চ তৈরি করছে। ফলে সাংস্কৃতিক চর্চা শুধুই নগর-মহলে সীমাবদ্ধ থাকে না, দেশব্যাপী বিস্তৃত হয়।
পুরস্কার, সম্মাননা ও বর্ধিত পরিচিতির কারণে যারা পড়াশোনা বা ছোট-মাপের সাহিত্যিক কাজ করছেন — তাদের জন্য এটি প্রণোদনার উৎস। বিশেষ করে “লিটল ম্যাগাজিন” বা স্বাধীন ছোট প্রকাশনায় যারা কাজ করেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ।
কবিতা পাঠের সঙ্গে রয়েছে এলেভেটেড আলোচনা, গদ্য-চর্চা, লিটল ম্যাগাজিন বিশ্লেষণ — যা শুধু আবেগগত নয়, প্রগতিশীল সাহিত্য ও সংস্কৃতি গঠনের অঙ্গ। এটি নতুন দৃষ্টিকোণ, নতুন প্রহর, নতুন চিন্তার মঞ্চ তৈরি করে।

যদিও আয়োজন ইতোমধ্যেই ঘোষণা হয়েছে এবং প্রতিক্রিয়া ভালো, তবে কিছু দিক আরও গুরুত্ব পাচ্ছে:
অংশগ্রহণ এবং আয়োজন ভালো হলেও — ভবিষ্যতে “লড়াই” রূপকথা নয়, ধারাবাহিক সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা গঠন করা।
নতুন লেখক ও ছোট প্রকাশনাকে শুধু পুরস্কৃত না করে, নিয়মিত পাঠক-সম্পর্ক ও প্রকাশন-পরিকাঠামা তৈরি করা।
মেলার বাইরে এবং সমাপনী অনুষ্ঠান থেকে অগ্রগতি; অর্থাৎ, স্থানীয় সাহিত্য-সংগঠন, স্কুল/কলেজ, বইমেলা, অনলাইন মাধ্যমে সক্রিয় রাখার জন্য পরিকল্পনা।
সমাজিক ও অর্থগত বাধা (যেমন : পরিবহন, অর্থ, সময়) কাটিয়ে লেখকদের — বিশেষ করে প্রান্তিক অঞ্চলের — অংশগ্রহণ নিশ্চিত কর।
—
বগুড়া কবি সম্মেলন ২০২৫, কেবল একটি সাহিত্য অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ নয়। এটি এমন এক সাংস্কৃতিক উদ্যোগ যা প্রান্তিক — অর্থাৎ রাজধানীর বাইরে — সাহিত্য-চর্চা, গদ্য এবং কবিতার সম্ভাবনাকে জীবিত রাখার সংকল্প।
যেখানে পুরস্কার ও স্বীকৃতি রয়েছে — কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা, নতুন সংলাপ, নতুন জ্ঞানের আদান-প্রদান, নতুন মুখ এবং নতুন প্রতিজ্ঞা।
বাংলাদেশের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক মানচিত্রকে শুধু ঢাকাসর্বেন্দ্রিক করে না; বরং, বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল — সব অঞ্চলের পাঠক, লেখক ও সংস্কৃতি-প্রেমীদের কাছে অনুপ্রেরণা ও অংশগ্রহণের সুযোগ এনে দিচ্ছে।
এই সম্মেলন সফল হলে, বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি এই অঞ্চলে — এবং ভবিষ্যতে পুরো দেশে — নতুন শক্তি পাবার পথে একটি বড় পদক্ষেপ হয়ে উঠবে।
বহুস্বর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির বিকাশে নিবেদিত পোর্টাল। দেশ-বিদেশের সকল সংস্কৃতির সহাবস্থানসহ সাংস্কৃতিক সংহতিতে বহুস্বর প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
277/5 Shaheed Janani Jahanara Imam Smarani (Katabon Dhal), New Market, Dhaka–1205.
Bohuswar © 2025. All Rights Reserved.