Homeঅন্যান্যঢাকায় শুরু হচ্ছে ‘বিজয় বুক ফেয়ার ২০২৫’

ঢাকায় শুরু হচ্ছে ‘বিজয় বুক ফেয়ার ২০২৫’

Untitled-1-copy-2207071753

 

রাজধানীতে শুরু হচ্ছে Bijoy Book Fair 2025, ডিসেম্বরভিত্তিক নতুন বইমেলা। আয়োজকরা জানাচ্ছেন, বছরজুড়ে পাঠচর্চা সচল রাখা এবং তরুণ প্রজন্মকে বইমুখী করার লক্ষ্যে এই মেলার আয়োজন। যাচাইকৃত তথ্যমতে, বইমেলাটি মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস, সমকালীন সাহিত্য ও নন-ফিকশন ধারা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

 মেলা কবে ও কোথায়

“Bijoy Book Fair 2025” ৪ ডিসেম্বর থেকে ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আয়োজিত হবে, এবং এর আয়োজন করা হচ্ছে Bangladesh Publishers and Booksellers Association (BAPUS)–র নেতৃত্বে, প্রাঙ্গণ হিসেবে ব্যবহৃত হবে Bangla Academy–র মাঠ। 
মেলার নামকরণ এবং সময় নির্বাচন — ডিসেম্বর — “বিজয়ের মাস” হিসেবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ; এই মেলা শুধু বই বিক্রির জন্য নয়, বরং বিজয়ের স্মৃতি, স্বাধীনতার মূল্য এবং জ্ঞানের শক্তিকে কেন্দ্রবিন্দু করতে চায়। 

 মেলার পরিধি ও আকাঙ্ক্ষা

  ২০০-এর বেশি স্টল হবে এবং ৫০০–৭০০টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বানগভাষা সাহিত্য, গদ্য-কাব্য, গুচ্ছগল্প, ইতিহাস, সশ্রুতি, শিশু সাহিত্য ও নন-ফিকশনসহ বিভিন্ন ধরণের বই অন্তর্ভুক্ত করবে। 
 নতুন লেখকদের অংশগ্রহণ, ছোটপ্রকাশনা, অনুবাদ, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা-চেতনায় নিবেদিত বই তোলার সম্ভাবনাও রয়েছে — যা মেলাকে সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক মাত্রায় গড়ে তুলবে। 

 মেলার কর্মসূচি ও আকর্ষণ

মেলার প্রতিদিন থাকবে বই–মোড়ক উন্মোচন, লেখক-পাঠক মিলন, কবিতা পাঠ, আলোচনাসভা, প্যানেল-ডিবেট — কিছু থিম হবে “বই ও বিজয়”, “স্বাধীনতার সাহিত্যকৃতি” ইত্যাদি। 
 
শিশুদের জন্য “Children’s Corner” থাকবে, যেখানে গল্প-শোনা, ছাপচিত্র, নতুন শিশু-সাহিত্য, এবং অন্যান্য কার্যক্রমের আয়োজন থাকবে। পাশাপাশি cultural open-stage থাকবে — যেখানে যুদ্ধ স্মৃতি, দেশপ্রেম, সংগ্রাম, ঐতিহ্য—সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আবৃত্তি ও সংগীতেও মঞ্চ পাওয়া যাবে। 

সাহিত্যচর্চা ও জাতীয় ঐতিহ্যের প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে বইমেলা বা গ্রন্থোৎসব কিন্তু নতুন নয়; তবে “Bijoy Book Fair 2025” গঠন করেছে একটি নতুন ধারার — যা শুধু বাণিজ্য বা বই বিক্রি নয়, বরং ইতিহাস, স্মৃতি, ভাষা-চেতনা, মুক্তির স্মৃতি, জাতীয় অর্জন এবং জ্ঞানের গুরুত্বকে তুলে ধরবে।
 
ডিসেম্বার বিজয়ের মাসকে ‘বিজয়ের ভাষা ও সাহিত্য উত্সব’ হিসেবে উপস্থাপন করায় — নতুন বই, নতুন লেখক, নতুন চিন্তা এবং নতুন লেখার সম্ভাবনা সবার সামনে আসে। বিশেষ করে যারা মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা–সংগ্রাম, ইতিহাস, সামাজিক ন্যায়, জাতিগত চেতনা নিয়ে কাজ করেন — তাদের জন্য এই মেলা নিজেকে সম্প্রদায় হিসেবে গড়ে তোলার একটি সুযোগ হতে পারে।
 

চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা

যেহেতু এটি প্রথমবার “বিজয় বইমেলা” — সাফল্য ও চাহিদা একসঙ্গে যাচাই করতে হবে। ২০০+ স্টল, ৫০০–৭০০ নতুন বই, হাজার-হাজার পাঠক — এ সব বাস্তবায়ন সহজ নয়। যৌথভাবে মেলার আয়োজন, নিরাপত্তা, ভর্তির নিয়ন্ত্রণ, ডিজিটাল প্রচার, এবং বিশেষ করে পাঠক-লেখক সংযোগের গুরুত্ব থাকবে।
 
অন্যদিকে, যদি মেলা সফল হয় — তাহলে বাংলাদেশের গ্রন্থপ্রেমী, লেখক, প্রকাশক এবং বেসরকারি সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো আবারো নতুন ঢেউ সৃষ্টি করতে পারবে। বিজয় আর বই — দুইশক্তিকে একত্রিত করে, এই মেলা বাঙালি সংস্কৃতির এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে পারে।