Last updated: ডিসেম্বর ৮, ২০২৫ at ০৩:৫৫ অপরাহ্ণ

বাংলার তাঁত শিল্পের উজ্জ্বলতম পরিচয়গুলোর একটি হলো টাঙ্গাইল শাড়ি। শত বছরের ঐতিহ্য, নিখুঁত হাতের কাজ আর নকশার বৈচিত্র্য—সব মিলিয়ে টাঙ্গাইল শাড়ি এখন শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বব্যাপী বাঙালি নারীর সৌন্দর্যের প্রতীক। টাঙ্গাইল জেলার করটিয়া, দেলদুয়ার, নাগরপুর, বাসাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁতিদের যত্নে জন্ম নেয় এই অনবদ্য শাড়িগুলো।
মিহি সুতা ও কোমল বুনন – পরতে অত্যন্ত আরামদায়ক, হালকা এবং নরম।
জটিল জামদানির ছোঁয়া – তিরপল, বুটিদার, ফুলকলি, জিগজ্যাগসহ নানান নকশা।
উজ্জ্বল ও মাটির রঙ – লাল, সবুজ, নীল, মেরুন, অফ-হোয়াইট, সোনালি ইত্যাদির বৈচিত্র্য।
হ্যান্ডলুমে তৈরি – প্রতিটি শাড়ি তৈরি হয় হাতের তাঁতে, ফলে প্রতিটি শাড়ি হয় আলাদা ও বিশেষ।
বলা হয়—ব্রিটিশ আমল থেকেই টাঙ্গাইলের তাঁতিরা তাদের অসাধারণ দক্ষতার জন্য পরিচিত ছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নকশা ও বুননে এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া, কিন্তু ঐতিহ্যের শিকড় আজও অটুট। টাঙ্গাইল শাড়ি আজ দেশের অন্যতম বড় হস্তশিল্প শিল্পে পরিণত হয়েছে।
টাঙ্গাইল শাড়ি ঈদ, পূজা, বিয়ে, পহেলা বৈশাখ, বিজয় দিবসসহ সব উৎসবে নারীদের প্রথম পছন্দ। পাশাপাশি বিদেশে প্রবাসী বাঙালিদের কাছেও এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি সাংস্কৃতিক উপহার।
প্রতিটি টাঙ্গাইল শাড়ির পেছনে থাকে একজন তাঁতির শ্রম, ধৈর্য ও শিল্পচেতনা। দিনের পর দিন তাঁতের শব্দ, সুতা কাটার গন্ধ আর হাতে বোনা স্বপ্ন—এই সবকিছু মিলেই তৈরি হয় একটি শাড়ি। তাই টাঙ্গাইল শাড়ি শুধুই একটি পোশাক নয়, এটি একেকটি শিল্পকর্ম।
জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে টাঙ্গাইল শাড়ি বাঙালির পোশাক-সংস্কৃতিতে গভীরভাবে প্রোথিত। হাতে বোনা এই শাড়ি আমাদের ইতিহাস, শিল্প, ঐতিহ্য ও গর্বের বহনকারী। টাঙ্গাইল শাড়ির সৌন্দর্য শুধু চোখে নয়—মনেও ছড়িয়ে পড়ে; তাই যুগ যুগ ধরে এটি বাঙালি নারীর অনন্য পরিচয় হয়ে আছে।
বহুস্বর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির বিকাশে নিবেদিত পোর্টাল। দেশ-বিদেশের সকল সংস্কৃতির সহাবস্থানসহ সাংস্কৃতিক সংহতিতে বহুস্বর প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
277/5 Shaheed Janani Jahanara Imam Smarani (Katabon Dhal), New Market, Dhaka–1205.
Bohuswar © 2025. All Rights Reserved.